AMIE থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে প্রশাসনে প্রথম স্থান

৩৮ তম বিসিএস (প্রশাসন) এ প্রথম স্থান অর্জন করেছেন যিনি, তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (পুরকৌশল)।

এস এম রুহুল আমিন শরীফ এবার ৩৮তম বিসিএস প্রশাসনে মেধায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

ঢাকা কলেজে থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স , বাংলাদেশে থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এএমআইই ( বিএসসি ইঞ্জি: ) পাস করেন।

পরবর্তীতে তিনি জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্সের ছাত্র ছিলেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজি ভাষা শিক্ষার উপর মাস্টার্স (ইভিনিং) ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে কৃষি ব্যাংকে অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার দয়াকান্দার বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. ছিদ্দিকুর রহমানের বড় ছেলে রুহুল আমিন শরীফ।

আর সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

ইতোমধ্যে মারিয়া ইশরাতের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনেও আবদ্ধ হন। এর আগে শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয়ে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

শরীফ জানান, ভাইভা দেয়ার পরই তার স্ত্রী মারিয়া ইশরাতের দৃঢ় বিশ্বাসে বলেছিল প্রথম হবেন। সেটাই সত্যি হল।

স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এমন সফলতা এসেছে বলে উল্লেখ করেন শরীফ। তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে দেশসেবা করার জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, তিনি কোন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET, DUET, RUET, CUET, KUET) এ পড়ালেখা করেন নি।

এমনকি তিনি তথাকথিত দেশের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা ইন্সটিটিউট এ পড়ালেখা করেন নি।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (IEB)এর প্রকৌশল সনদের কোর্স (AMIE, (Section A, and B)) সম্পন্ন করেই তিনি প্রকৌশলী হয়েছেন।

পরবর্তীকালে তিনি মাস্টার্স করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (সান্ধ্যকালীন কোর্স) থেকে।

অভিনন্দন জানাচ্ছি।
কথাগুলো বলার দুটো মানে।

এক হচ্ছে, পড়ালেখার জন্য প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, তবে একমাত্র নয়।

দুই হচ্ছে, প্রায় সব জেনারেল ক্যাডারেই এবার ইঞ্জিনিয়ার সুপারিশকৃত হয়েছেন। ( পুলিশ ক্যাডার এ প্রথম, দ্বিতীয় দুজনই BUETian)
সবথেকে ভয়ানক তথ্য টা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫ জন সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। তার মধ্যে ১৩ জন ইঞ্জিনিয়ার। BUET- 10, RUET- 01, KUET- 01, MIST- 01)
আর ডাক্তার রয়েছেন ০৭ জন।

ছাত্র সমাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পারায় তুমুল আলোচনা উঠেছে যে, বিসিএস এর জেনারেল ক্যাডার গুলোতে এত এত ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার দের প্রবেশ করা নিয়ে। যেটা আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও হয়ত এমন ছিলো না।

রাষ্ট্রের প্রশাসন, আইন শৃংখলা, কূটনীতি সামলাবে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার রা। আর ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার দের প্রফেশনাল সেক্টর ত অবশ্যই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার রা সামলাবে, সেখানে অন্যদের যাবার সুযোগ নেই।

যাই হোক, এটার ব্যাখ্যা বা এই পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার ভালো খারাপ দিক গুলো যার যার নিজের মত করে বুঝে নিবেন আশা করি।

উচ্চ মাধ্যমিক এর পর দেশের বেশিরভাগ মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখনো ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার ই হতে চায় এবং সে অনুযায়ী ভর্তিও হয়।

কিন্তু দিন শেষে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার দের সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পদমর্যায় কোথায় রাখা হয় সেটা বছরের পর বছর সবাই দেখে আসছে৷

সুতরাং এরকম পরিবর্তন হতোই একসময়।
সামনে সকল জেনারেল ক্যাডার ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার রা জয় করুক, সেই কামনা।

 

লেখা: সংগৃহীত

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *