বুয়েট ছেড়ে মেডিকেল: তিন প্রফেই ফার্স্ট

পেছনে ফিরে তাকালে যখন দেখি আমার তিন প্রফেই প্রথম স্থান, এখনো কথাটি ভাবতেই অবাক লাগে যেহেতু আমার ভার্সিটি লাইফের শুরু বুয়েটিয়ান হিসেবে!

ছোট থাকতে কখনোই ডাক্তার হতে চাইতাম না। মা-বাবা ডাক্তার ছিলেন, তাদের ব্যস্ততা খুব কাছ থেকেই দেখেছি। হয়ত এই কারণেই এই পেশার প্রতি খুব একটা টান অনুভব করিনি, কিন্তু কে জানত একদিন আমার পরিচয়ই হবে আমি একজন চিকিৎসক।

অ্যাডমিশন টেস্টের সময়ে আমি বুয়েটে চান্স পাই। ইইই ডিপার্টমেন্টে ক্লাসও করেছি ২ মাস। মেডিকেল পরীক্ষার রেসাল্ট দেয়ার পর দেখলাম, ডিএমসিতেও চান্স পেয়েছি। তখন মূলত মা-বাবার ইচ্ছাতেই এখানে আসা।

যদিও আমি ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ডাক্তারি পড়তে চলে এলাম, কেন জানি আমার খাপ খাওয়াতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। আমি সবসময়ই দিনের পড়া দিনেই পড়তে জোড় দেই। প্রতিদিন ক্লাসে যা পড়ায়, শুধু সেইটুকুই সেইদিন একবার দেখলেই হবে, তাহলে আর তুমি কখনোই পিছিয়ে পড়বে না। একাগ্রতা ও সততা- এই দুটি জিনিস হল সাফল্যের চাবিকাঠি।

প্রথম প্রফেই প্রথম হওয়াতে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। আমাদের সময়ে কোন বিষয়ে অনার্স পেতে ৭৫% নাম্বার পেলেই চলত। আমার ব্যাচ কে-৬২ অসাধারণ মেধাবী একটা ব্যাচ ছিল এবং আমার যতদূর মনে পড়ে, আমরা ৪০ জন মত তিন বিষয়েই অনার্স পাই। কিন্ত এর পরের প্রফগুলাতে নিয়ম পাল্টে অনার্স ৮৫% নাম্বারে দেয়া শুরু হল।

তাই এর পরের দুটি প্রফ যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমার মনে হয় আমার প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস এবং অবশ্যই কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় আমি পার হয়ে যাই।

আমার যা কিছু অর্জন সবকিছুর কৃতিত্ব আমি দেব আমার মা-বাবা ও রোগীদেরকে, যাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।

আমি আমার এমআরসিপি শেষ করেছি আর এখন আছি এমডি ফেজ ২ এ। আমার সবসময়ই গবেষণার দিকে ঝোঁক, এখন চেষ্টা করছি এন্ডোক্রাইনোলোজী নিয়েই কাজ করতে।

আমাকে যিনি সবসময়ই অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন তিনি হলেন প্রফেসর নাজমুল আহসান স্যার, ওনার মত শিক্ষক পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার। একজন বাংলাদেশী ডাক্তার হিসেবে যে প্রশ্নটার প্রায়ই মুখোমুখি হতে হয় তা হল আমি কেন বিদেশ চলে যাইনি? আসলে আমার কখনোই বিদেশ চলে যাবার পরিকল্পনা ছিলনা।

এর কারণ এই না যে আমি অনেক বড় দেশপ্রেমিক বা দেশের প্রতি কর্তব্যের খাতিরে থেকে যাব, এটা আমার সিদ্ধান্ত যে আমি বাংলাদেশেই থাকব, ইচ্ছাটা আপনাআপনিই আমার ভেতর থেকেই আসে। এখানেই পরিবার ও কাছের মানুষদের মাঝে বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পাই।

Dr. Tania Tofail
DMC K-62
OSD,DGHS
Resident,Phase-B, BSMMU
First in all 3 Professional Exams

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *