রাসেল যা করেছে তা এক্সপেরিমেন্ট, প্রতারণা নয়

ইভ্যালির রাসেলকে কখনো আমার বাটপার জাতীয় কিছু মনে হয় নাই। এই লোকটাকে ক্রিয়েটিভ ধরনের বিজনেসম্যান হিসেবে আমি দাবি করব।

গ্রেফতারের পর থেকে আমি একটু গভীরভাবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো লক্ষ্য করলাম।

রাসেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাব অভিযোগ করতেছে, তার পরিকল্পনা ছিল বিদেশী কোন ইনভেস্টরের কাছে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করে দেয়া।

এইটা তো কোন অভিযোগ হইতে পারে না। বিদেশী কোম্পানির কাছে শেয়ার বিক্রি করা কোন অপরাধ না। শেয়ার বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল তার। এইটাও অপরাধ না। এইটাই ব্যবসার নিয়ম।

কোন সন্দেহ নাই, ইভ্যালি একটা এক্সপেরিমেন্টাল প্রতিষ্ঠান। একটা নতুন আইডিয়া নিয়া কাজ শুরু করছে তারা।

বাংলাদেশ আরো দুইটা এক্সপেরিমেন্টাল বিজনেস আইডিয়া নিয়া সাকসেসফুল হইছে এমন প্রতিষ্ঠানের কথা বলা যাবে বিকাশ আর পাঠাও।

বিকাশ এখন রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে। ব্যবসার একটা পর্যায়ে এরা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার বিক্রি করছে। পাঠাও লিমিটেডও সেইম। টোটালি এক্সপেরিমেন্টাল বিজনেস, এখন একটা বড় শেয়ার বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে পুঁজি সংগ্রহ করছে।

এই দুইটা কোম্পানিই শেয়ার বাজারে ঢুকে পরছে। সেইখান থেকেও তারা পুঁজি কালেক্ট করতেছে। তো, ইভ্যালি সেইটা করতে চাইলে সমস্যাটা কোথায়?

দ্বিতীয় অভিযোগ, রাসেল ইনভেস্টর না পাইলে প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া ঘোষনা করে দিতে চাইছিল।।

এইটাও কোন অভিযোগ হইতে পারে না। যে কোন প্রতিষ্ঠানই বানিজ্যিকভাবে আর লাভ করতে না পারলে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষনা করতে পারে, এইটা প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রেই থাকে। এইটা লিগ্যাল সিস্টেম, ক্রাইম না।

রাসেলের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিঙের কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায় নাই। টাকা পয়সা নিয়ে ভেগে যাওয়ার কোন পরিকল্পনা তার নাই এইটাও স্পষ্ট। বিদেশ যাওয়ার কোন হিস্ট্রি তার পাসপোর্টে নাই। দেশের বাইরে টাকা পাচারের কোন প্রমান নাই। ইভ্যালির টাকা অন্য কোথাও সরায় ফেলার কোন চেস্টাও দেখা যায় নাই। তার একটা বিজনেস প্ল্যান ছিল। প্ল্যানটা ফেল করছে।

কুয়াকাটার এক হুজুর ধর্মের নাম বেঁচে পাবলিকের সতেরো হাজার কোটি টাকা মেরে দিছে, অথচ তার কোন বিজনেস প্ল্যানই ছিল না। তার উদ্দেশ্যই ছিল ধান্দাবাজি। তার বিপরীতে ইভ্যালির রাসেল মাত্র পাঁচশ কোটি টাকার ঘাটতিতে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে। তারে ক্রিমিনাল বানায়ে দেয়া হইছে। ধান্দাবাজ আর ব্যবসায়ি দুইটা দুই জিনিস, মিডিয়া দুইটারে এক করে ফেলতেছে।

Evaly co brands

ব্যবসা করা কি ক্রাইম?

সর্বোপরি, রাসেল ইভ্যালিকে যে কোনভাবে দাঁড় করানোর আপ্রান চেস্টা করে যাচ্ছিল। সে ব্যর্থ হইছে, বারবার সময় চাইছে, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানটা সফল করে তোলা। এর বাইরে তার আর কোন উদ্দেশ্য দেখা যায় নাই।

তার বিজনেস মডেলটা ফেল করছে। সে একটা নতুন আইডিয়া নিয়া মাঠে নামছে, আইডিয়াটা ঠিকঠাক কাজ করতেছে না। রাসেলের ভুলগুলা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্য কেউ সফল হইতে পারবে না এই কথা বলা যাবে না।

বাংলাদেশে চুরি বাটপারি করে বেশ কিছু ব্যাঙ্ক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। গভমেন্ট লোন দিয়ে ব্যাঙ্কগুলাকে দাঁড় করানোর চেস্টা করে যাচ্ছে। হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাঙ্কের মালিকেরা ভেগে গেল।

লুটপাট করে ধ্বংস করে দেয়া প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলাকে যদি গভমেন্ট লোন দিয়ে পুণরুজ্জীবিত করার চেস্টা করতে করতে পারে, ইভ্যালিকে কেন নয়?

আমি অর্থনীতি বুঝি না, একদমই ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে বলতেছি, আমার ভুল হইতে পারে, আমার কম্পারেটিভ লজিকগুলা ঠিক আছে কিনা অর্থনীতির লোকেরা ধরায়ে দিয়েন।

ব্যবসা একটা ক্রিয়েটিভ ব্যপার, অন্তত এই যুগে। ক্রিয়েটিভ বিজনেসম্যানদের পাশে গভমেন্ট যদি না দাঁড়ায়, শুধুমাত্র কাপর শেলাই করে আর বিদেশে দিনমজুর এক্সপোর্ট করে একটা দেশ কোনদিনও উন্নত হইতে পারবে না।

#শোয়াইব_সর্বনাম

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *