কৃষকের ধান কাটা সাংসদ, ছাত্রলীগ বা পুলিশের কাজ নয়

ধান মাথায় পুলিশ

কৃষকের ধান কেটে দেয়া সাংসদ, ছাত্রলীগ, ও পুলিশের কাজ নয়। ধান কাটার যে-সংকট, তা কাটানোর একটিই উপায় আছে।

উপায়টি হলো— কৃষকের হাতে ধান কাটার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি তুলে দেয়া। পৃথিবীতে বাংলাদেশের চেয়েও উন্নত দেশ আছে, যেখানে ধান চাষ হয়। ওখানে ধান কাটার নামে কাউকে ক্যামেরা-সেশন করতে হয় না। ধানের উৎপাদনও ওখানে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।

এসএসসি পাশ করলেই এখন আর কেউ কৃষিকাজ করতে চায় না। এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চাষবাস সব অশিক্ষিতদের কাজ, এ ধারণা সমাজ থেকে উৎপাটন করতে হবে। তরুণদের বিনাসুদে অথবা স্বল্পসুদে ধান চাষের জন্য ঋণ দিতে হবে।

প্রতিটি ইউনিয়নে, অন্তত দশজন কৃষককে ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহ করতে হবে। আমি হিশেব করে দেখেছি, প্রতি ইউনিয়নে দশটি ধান কাটার যন্ত্র থাকলে, তা দিয়ে পুরো ইউনিয়নের ধান কাটা যাবে। এ যন্ত্রটি বেশ দামী। এজন্য কৃষককে বিনাসুদে ঋণ দিতে হবে, এবং ঋণের মর্টগেজ হিশেবে ওই যন্ত্রটিই থাকবে, কোনো জমিকে মর্টগেজ হিশেবে নেয়া যাবে না।

তবে অন্তত একটি যন্ত্র, আপাতত প্রতি ইউনিয়নে সরকারি খরচে দেয়া জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে, এ যন্ত্র কেনার নামে যেন আবার লুটপাট ও ভ্রমণের মচ্ছব শুরু না হয়।

কৃষকদের সামাজিক মর্যাদার দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। না হলে আর কয়েক দশক পর, এ পেশায় আর খুব বেশি মানুষ পাওয়া যাবে না। সবাই শুধু গরু আর মাছের খামার করবে, কারণ এটি টাকা দিয়ে করা যায়।

কিন্তু ধান চাষ, সবজি চাষ, এ মৌলিক উৎপাদন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য টাকা যথেষ্ট নয়। এটি কী পরিশ্রমের কাজ, তা ফটোসেশানওয়ালারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।

সাংসদ, ছাত্রলীগ, ও পুলিশের উচিত সরকারকে চাপ দেয়া। সরকারকে বুঝাতে হবে যে, সমস্যার মূলে হাত না দিয়ে শুধু আহ্বান জানালে আর হাতছানি দিলে চলবে না।

এসব ফটোসেশান দেখে মানুষ হাসাহাসি করে, এটিও অনুধাবন করতে হবে। কারণ এসব ছবি দেখে বুঝার উপায় নেই যে— কে কার মাথার উপরে চড়েছে। মানুষের মাথায় ধানের মুট, না কি ধানের মুটের উপর মানুষ, তা এসব ছবি দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না।