কুষ্টিয়ায় মুর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ৪

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর: সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ২ মাদ্রাসাছাত্র আটক

কুষ্টিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চার মাদ্রাসাছাত্রকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরা হলেন আল আমিন, ইউসুফ, আবু বকর ও নাহিদ। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তারা স্থানীয় একটি মাদরাসা থেকে বের হয়ে এসে মূর্তি ভেঙেছে।

এ সময় মূর্তি ভাঙার ঘটনায় উসকানিদাতাদেরও ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেই নিজেদের অনেক শক্তিশালী মনে করতে পারে।

তবে তাদের এই ধারণা ভুল। বঙ্গবন্ধুর মূর্তির যারা বিরোধিতা করছে তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। সারাদেশের মূর্তির নিরাপত্তায় সরকার নজরদারি করছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শনিবার গভীর রাতে কুষ্টিয়ার যুগিয়া এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত জানান, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে ভালো খবর দেয়া যাবে।

এদিকে সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার রাত ২টা ১৬ মিনিটে জুব্বা ও টুপি পরিহিত দুই যুবক মই বেয়ে নির্মাণাধীন মূর্তির ওপর উঠে শক্ত কিছু দিয়ে ভাঙচুর করছে।

কয়েক সেকেন্ড ভাঙচুর শেষে তারা মই বেড়ে নিচে নেমে নির্বিঘ্নে চলে যাচ্ছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকাল ৩টায় জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে ভাঙচুরের ঘটনার পর কুষ্টিয়া শহরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দফায় দফায় ভাঙচুর ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

হামলার ছবি তুলতে গিয়ে দুই গণমাধ্যমকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে মূর্তি ভাঙচুরসহ কুষ্টিয়া শহরে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যাওয়ায় জেলা শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এর আগে কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন মূর্তি ভাঙচুরের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। শুক্রবার রাতে কোনো একসময় ভাস্কর্যটির ডান হাত, পুরো মুখ ও বাম হাতের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হয়।

এর প্রতিবাদে শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন।