“দেশ অশিক্ষিত মোল্লা মওলবীতে ভরে গেলে এই তো হয়” – ‌বাংলা একাডেমির সভাপতির বক্তব্যের সমালোচনা ফেসবুকে

‘দেশ অশিক্ষিত মোল্লা মওলবীতে ভরে গেলে এই তো হয় !’ – বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান তার ফেসবুক আইডির এক স্ট্যাটাসে একথা লিখেন।

বৈশ্বিক জ্ঞানসূচকের তলানিতে বাংলাদেশ শীর্ষক খবরের বিষয়ে মন্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান একথা লিখেছেন।

এই স্ট্যাটাসের ছবি শেয়ার করে নাগরিকরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন-

এই প্রতিক্রিয়ায় Mohiuddin Himel লিখেছেন, ‘আপনারা যে …. মত ৫০ বছর ধরে রাষ্ট্রের বড় বড় পজিশনে বসে সরকারি বেতন-ভাতা নিলেন সেটার কি খবর? এখন দায়ভার মোল্লাদের উপর চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করতেছেন, তা জনগণ ভালই বুঝে।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ গুলোতে মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে আটকে দিয়েছেন, বইমেলায় ইসলামী স্টল বরাদ্দ দেন নাই এরকম অসংখ্য জুলুম পঞ্চাশ বছর ধরে এ সমস্ত মোল্লা-মৌলভীদের উপর করেছেন, এতেও আপনাদের খায়েশ মিটে নাই!’

MD Jahid লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি কী মোল্লারা করে? হালুয়া-রুটির ভাগ কী মোল্লারা পাই? নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এর চে’য়ে তেজী অস্ত্র আর নাই! কেন নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করতেছেন না! চ্যালেঞ্জ করলাম! আসুন সাহিত্যাঙ্গণে মোল্লাদের আসরে।’

Jahangir Mohammad লিখেছেন, “যেদিকে তাকাই, শুধু কাঠমোল্লাদের হুঙ্কার, চারদিকে শুধু নিষেধের বেড়াজাল। কারও মুখে প্রতিবাদ নেই। সবাই কুলুপ এঁটে বসেছে। ভাবছে এবারের বিপদ অন্যদিক দিয়ে গেল। কিন্তু তা কি আর হয়?”

Anis Ahamad লিখেছেন, ‘শুধুই মোল্লাই স্যার-উচ্চ শিক্ষিত জ্ঞানহীনদের কথা বলবেননা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান চর্চা হীনতার কথা বলবেন না!!’

Mosta Habibul Islam লিখেছেন, ‘এর দায় কিন্তু আপনারা এড়াতে পারেন না স্যার। এতো বড় বড় দায়িত্বে থেকে আপনারা শুধু দায় পার করা কাজ করে গেছেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা নাজুক আর কতটা ভঙ্গুর তা অবোলোকন করেও না দেখার ভান করে যাচ্ছেন নিয়মিত।

আবার দোষ দিচ্ছেন মোল্লাদের নিজের দায় টা আগে পর্যালোচনা করে দেখুন তার পর অন্যকে দোষারোপ করুন।’

সাজ্জাদ কাদির লিখেছেন, ‘আমার ধারণা এখন দেশে অধ্যায়নরত মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেকের বেশি সাধারণ শিক্ষায় নয়; মাদ্রাসায় পড়ছে।কারণ দান দক্ষিণায় প্রতিদিন দেশের আনাচে কানাচে মাদ্রাসা,লিল্লাহ্ বোর্ডিং গড়ে উঠছে।

আমি শঙ্কিত ২০ বছর পর ধর্ম ছাড়া শিল্প,সাহিত্য,সংস্কৃতি চর্চা করা যাবে কিনা এই দেশে ! একটি বিশাল নাড়া দেওয়া প্রয়োজন; একটি পরিবর্তন প্রয়োজন এই অবস্থার।’

Imran Hossain Suhag লিখেছেন, ‘এই শামসুজ্জামান খান, একটা পত্র লিখলে ৫০ টা শব্দ ভুল লিখে। সে এখন জ্ঞানহীনতার জন্য আফসোস করে। এই এক লাইনের ক্যাপশনেও একটা বানান ভুল।।’

Md Shohid লিখেছেন, ‘আপনারাতো ৫০ বছর ধরে দেশ চালাচ্ছেন তাও মোল্লাদের দোষ। ৬ মাস মোল্লাদের হাতে দেশটা দিবেন। চ্যালেঞ্জ দিলাম গত ৫০ বছরে যেটুকু দেশকে পিছিয়ে দিয়েছেন ৬ মাসে সেটাও ফিরে আসবে ইন শা আল্লাহ।’

Faisal Arafat লিখেছেন, ‘বারোমাসে তেরোটা রিসার্চ পেপার চুরি চামারি করে ধরা খেয়ে যখন আর মুখ লুকানোর জায়গা থাকেনা তখন দুবাইয়ের মোল্লাদের করা পরিসংখ্যান শেয়ার দিয়ে ভং ধরতে হয়। কতটুকু হিংসা আর ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকে এই ভাড়াখাটা বুদ্ধিজীবীরা। এই গোরুর বিচার আপনারাই কোরুন।’

Nazmul Huda লিখেছেন, দেশের একগাদা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটাও মোল্লারা চালায় না।সবগুলো চালায় আপনাদের মতো স্যুট টাই পরা ভদ্দোরনোক। আমাদের হলো অন্যের কান্ধে আজান দিয়া খাওয়ার অভ্যাস। কখনোই নিজেদের ভুল স্বীকার করি না আমরা।’

Md. Abdul Moied লিখেছেন- “মোল্লা মৌলবী পরের বিষয়,আগে দেখেন তো আপনার শিক্ষিত প্রতিষ্ঠান জাতিকে কি দিচ্ছে 🙄🙄।কীভাবে দুর্নীতি আর অনিয়ম করা যায় সেটাকে যদি শিক্ষা বলা হয় তাহলে সারাজীবন তলানিতেই থাকতে হবে।আর তাছাড়া আপনাদের মতোই সুশিক্ষিত দুর্নীতিবাজ ক্ষুধার্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারাই দেশ চালাচ্ছে। নিজেদের দোষ মোল্লাদের উপর চাপিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। আর হ্যাঁ শিক্ষিত চোর যে তৈরী করতেছেন একদিন দেখবেন এদের দ্বারাই আপনার ঘরের সবকিছু চুরি হচ্ছে 😄😄”

Tanisha Rahman লিখেছেন, ‘অতিরিক্ত সংস্কৃতি নির্ভরশীল শিক্ষাও বেড়েছে। সবকিছু মোল্লাদের উপর দোষ চাপিয়ে দিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০% সাবজেক্টসই বাস্তবিক জীবনে কাজে আসে না।

এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্হা ধ্বংসের জন্য অতিরিক্ত সাহিত্য নির্ভরশীল পড়া লেখাও দ্বায়ী। আমাদের দেশে প্রকৌশলী বিষয়ের চেয়ে সাহিত্যের বিষয়কে বড় করে দেখা হয়।’

ইমন শিকদার লিখেছেন- “জ্ঞানসূচকের মাপকাঠি হয়ই কিন্তু এই শিক্ষতদের নিয়ে ওই অশিক্ষিত মোল্লাদের নিয়ে না।”