সেকেন্ড টাইমার হিসেবে প্রস্তুতি নেয়া কঠিন অভিজ্ঞতা

একজন সেকেন্ড টাইমারের এই একটা বছর যে কিভাবে যায় তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন!তারপরও লিখলাম কয়েকটা কথা…

আমার বাবার খুব ইচ্ছা ছিল,আমাকে ডাক্তার হিসেবে দেখবে,আমারও খুব ইচ্ছা ছিল মেডিকেল কলেজে পড়ার,কিন্তু ২০১৮ তে মেডিকেলে চান্স পেলাম না,আল্লাহর অশেষ রহমতে জাস্ট,সাউ তে ভাল সাব্জেক্টে চান্স পেলেও ঢাবি তে লেদারে প্রোডাক্টসে ভর্তি হলাম!

রেটিনাতে কোচিং শুরু করার পর প্রথম থেকেই আল্লাহর রহমতে ভালোই হচ্ছিল!সেকেন্ড টাইমারদের মধ্যে ফার্স্ট হলাম আলহামদুলিল্লাহ!তারপর ফার্স্ট টাইমাররা আসল,ভালোই হচ্ছিল,শেষে গিয়ে ১৯তম হলাম কম্বাইন্ডে আলহামদুলিল্লাহ!

তারপর জাবি র ডি ইউনিটের পরীক্ষা আসল,আলহামদুলিল্লাহ ১৬৪ তম হলাম!২য় বারের মত আবার মেডিকেল পরীক্ষা দিলাম আলহামদুলিল্লাহ ফরিদপুর মেডিকেল আসল,তারপর মাইগ্রেশানে বরিশাল আসল!

যারা এইবার সেকেন্ড টাইমার হয়েছ তাদের বলি,আল্লাহ সবাই কে সবকিছু একসাথে দেন না!চেষ্টা করে যেতে হবে,অনেক মন খারাপ হবে,অনেক পিছুটান আসবে,কিন্তু পড়া চালিয়ে যেতে হবে,ইন সা আল্লাহ শেষে গিয়ে অনেক ভাল কিছু হবে!

একজন সেকেন্ড টাইমার নিজে তো শোনেই,তার পরিবারকেও অনেক কটু কথা শোনা লাগে!আমার মা কে মানুষ ‘ঢাকায় পাঠিয়ে ছেলেরে নষ্ট করেছেন;কি করেছে নটরডেমে পড়ে;আবার এক বছর সময় নষ্ট করাচ্ছো;’

এমন অনেক কথা শুনিয়েছে!এই মানুষ গুলায় এখন বলে ‘খুব খুশি হয়েছি বাবা,মিষ্টি কই…’ এই ধরনের কথা বলে!তাই তাদের কথাগুলা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করায় শ্রেয়😁

২০১৪ সালের পর থেকে আমার মা বাবা দুইজনই আমার আম্মি!

সে সব সময় আমার পাশে ছিল আলহামদুলিল্লাহ,সুসময়ে দু:সময়ে!এতো অপমানিত হওয়ার পরও আমার উপর বিশ্বাস রেখেছিল!

আমার চান্স পাওয়ার খবরটা শুনেই সে ফোনেই কেদে ফেলেছিল,তখন মনে হল আলহামদুলিল্লাহ আমি জিতেছি!

সবাই দোয়া করবেন! 💙

-Shefat e hanif Shilon
Sher-E Bangla Medical College, Barishal