আমাদের সাফল্যের ভাগীদার আম্মুও

আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি তখন বাবা মারা যান। আপু তখন ক্লাস এইটে। এই অবস্থায় পুরো পরিবারের দায়িত্ব পড়ে আম্মুর উপর।

আম্মু গৃহিণী,বাবার রেখে যাওয়া কিছু সঞ্চয় আর জমি,এই নিয়ে সংগ্রাম করে দুই মেয়েকে বড় করতে হয়েছে।

আত্মীয়স্বজনরা নানান কথা বলত- “মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দাও,তোমার তো আর ছেলে নেই যে দেখে রাখবে।”

কিন্তু আম্মু আমাদের নিয়ে তার লড়াই চালিয়ে গেলেন। আপু যেদিন ভর্তি পরীক্ষায় ২২তম হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেলো, সেই সাফল্যের ভাগীদার একই সাথে আমার আম্মুও।

আমার ভর্তি পরীক্ষার আগে আপু অনেক সাহায্য করতো। আমাকে কোনদিন বায়োলজির জন্য প্রাইভেট পড়তে হয়নি।

ছুটিতে বাসায় গেলে আপু যেটুকু পড়িয়ে দিত,সেটা দিয়েই হয়ে যেত। ভর্তি পরীক্ষার রেসাল্টের পর আপুকে জড়িয়ে অনেক কেঁদেছিলাম,সেই মূহুর্তের আনন্দটা বলে বোঝানো যাবে না।

চান্স পাবার পর আমি হোস্টেলে আপুর রুমে ওঠার জন্য অ্যাপ্লাই করি। যদিও প্রথম দিকেই ফার্স্ট ইয়ারদের রুমে ওঠার নিয়ম ছিল না,কিন্তু আমাদের প্রভোস্ট শহীদ স্যার যখন শুনলেন আমরা দুই বোন তিনি সাথে সাথেই ব্যবস্থা করে দিলেন।

ফলে একদিনের জন্যও হল লাইফে কষ্ট করতে হয়নি, মনে হচ্ছিল যেন বাসাতেই আছি। প্রথম প্রথম হলের খাবার খেতে অসুবিধা হতো।

আপু তখন ইন্টার্নশিপ করছে,এত ব্যস্ততার মাঝেও আমার জন্য রান্না করে দিত।

আপুর নাইট ডিউটি থাকলে মাঝে মাঝেই রাতে বেড়িয়ে পড়তাম,চানখারপুলের রেস্টুরেন্টগুলোতে।

দুই বোন মিলে টিএসসির আশেপাশে ঘুরে বেড়াতাম।

ডিএমসি আসার পর বুঝতে পারি আপু আমার আর আম্মুর জন্য কতখানি ত্যাগ স্বীকার করেছে।

কখনো শখের বশে কিছু কিনেনি, বরং ওই টাকাটা আম্মুকে পাঠিয়ে দিয়েছে। পয়লা বৈশাখে আপুর ক্লাসমেটরা লাল-সাদা শাড়ি পরে ঘুরতে যেত।

আপু সাধারণ পোশাকেই বের হতো, শাড়ি কিনাটা আবার বাহুল্য হয়ে যায় কিনা দেখে। আপুদের ব্যাচ যখন কক্সবাজারে ট্যুরে গেলো, আপু গেল না অযথা খরচ হবে বলে।

এছাড়া আপু চায়নি যে আমাকে আর আম্মুকে ছাড়া ঘুরে আসতে। তাই চাকরি পাবার পরেই আমাদের দুজনকে কক্সবাজারে ঘুরিয়ে নিয়ে আসে।

নিজে এত কষ্ট করে থেকেছে,যাতে আমরা কিছুটা ভালো থাকতে পারি।তারপরেও ইন্টার্নশিপের সময় আপু নিজেই অনেকবার পেশেন্টদের ওষুধ কিনে দিয়েছে।

ট্রিটমেন্টের টাকা কম পড়ে গেলে বাকিটা নিজের পকেট থেকে দিয়েছে।

এরকমও হয়েছে যে রাস্তায় একজনকে অজ্ঞান পেল, আপু গাড়ি ভাড়া করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।

আমার হয়ত ভাই নেই, বাবাকেও হারিয়েছি। কিন্তু আমার বোন আমাকে বাবার অভাব কখনোই বুঝতে দেয়নি আর যা করেছে তা হয়তো ভাইয়ের চাইতেও বেশি কিছু।

আমার কোন আবদার কখনও অপূর্ণ রাখেনি। তাই আমি বলতে পারি আপু একই সাথে আমার বোন, বাবা আর ভাই।

যেই মেয়েটা অল্প বয়সেই পিতৃহারা হয়েছিল, সম্পূর্ণ নিজের উদ্যম ও চেষ্টায় সে আজ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একজন অফিসার।

সকল প্রতিকূলতা পার করে আসা আমার আম্মু বলতে পারে-

আমার বড় মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই- ক্যাপ্টেন ফাতেমা অফ বাংলাদেশ আর্মি।

My father died when I was in class 4. My sister was then in class 8. In this situation the responsibility of the family was now on my mother’s shoulders.

My mother was a housewife. Father had left some land and savings. With these my mother had to raise two daughters with much hardship.

The relatives used to say-” Why don’t you marry them off? It’s not like you have a son to look after you.” But mother went on with her struggle.

The day my sister stood 22nd in medical admission test exam, it was her triumph as much as my sister’s.

My sister used to help me out a lot before my own admission test. I never had to hire a tutor for biology.

What my sister taught when she came on vacation was enough. After hearing my result, I cried for a long time in her arms.

That moment can’t be described. After getting chance I applied to live in my sister’s room.

Though freshers weren’t granted a room this much early, our provost Shahid sir arranged it when he heard that we were sisters.

So I didn’t have to face the hardships of hostel life for a single day. It was like I was back at home. I couldn’t cope with the dorm food at first.

My sister was doing her internship then and cooked for me despite her busy schedules.

If she had duties during night shift, we would go to the restaurants in Chankharpool. We also hung aroung TSC sometimes.

After coming to DMC I realised how much my sister had to sacrifice for me and mother.

She never bought anything that she desired but sent that money to my mother.

On Pahela Baishakh her friends wore red-white sarees. She used to wear simple ones as she thought the cost to be unnecessary.

When her batch went on a tour to Cox’s Bazar, she stayed to save the cash. Moreover she didn’t want to go alone leaving us behind.

For that reason after she got a job she took us to Cox’s Bazar. She sacrificed this much so we could live a little better.

During her internship, many a times she had bought medicine for the patients. If they had shortage of money, she gave the rest out of her own pocket.

Even if she found someone unconscious on the road,she herself rented a vehicle to bring him to the hospital.

I may not have a brother and I’ve lost my father too. But my sister had never let me understand the absence of a father and what she did for me is certainly more than a brother ever could. She had always made my every wish come true.

So I could say that she is at a time my sister, father and brother.

The girl who lost her father at such an early age is now an officer of the Bangladesh Armed Forces and she achieved this feat on her own.

My mother, who has overcome every obstacle till now, can proudly say-”

Let me introduce to you my elder daughter Captain Fatema of Bangladesh Army.

Fatema Tuz Zohora
DMC K-65
Captain, Bangladesh Army

Umme Kulsum Shimi
DMC K-70

©Humans of DMC

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *