লবণ দিয়ে কচুপাতা সেদ্ধ খেয়ে জে এস সি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম

জেএসসি পরীক্ষা চলাকালীন একদিন ঘরে খাওয়ার মতো কিছু ছিলো না। আম্মু বাড়ির পাশ থেকে কচুপাতা এনে লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে দেয় আর আমি সেটা খেয়েই পরীক্ষা দিতে যাই।

বাবা মার একমাত্র সন্তান আমি। আমাদের পরিবার ছিল যৌথ পরিবার। বাবা আমার চাচার কোম্পানি তে এমডি হিসেবে চাকরি করতো। সবকিছু স্বাভাবিক ছিলো । যখন আমি ক্লাস থ্রি তে পড়ি তখন চাচার সাথে বাবার কিছু বিষয়ে ঝগড়ার কারণে বাবা তার চাকরি ছেড়ে দেয় ।

এরপর বাবা আমার মামার সাথে ব্যবসা শুরু করে । যখন আমি ক্লাস ফাইভে তখন হঠাৎ আমার বাবা দাবী করে যে মামা তার দেড় লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর জের ধরেই আমার বাবার সাথে মায়ের সম্পর্কের অবনতি হওয়া শুরু।

মায়ের ছোটখাটো ভুলের জন্য বাবা গায়ে হাত তুলতে দ্বিধাবোধ করতো না। এমনও দিন গেছে আম্মুকে মেরে জখম করে রুমে তালাবদ্ধ করে ফেলে রাখা হয়েছিলো। ফলে একদিন মামা ও নানী এসে আম্মু আর আমাকে নিয়ে যায় তাদের বাসায়।

আমার নানুবাড়ি থেকে আমার স্কুল অনেক দূরে ছিলো । তাই আমাকে ভোরেই স্কুলের উদ্দেশ্যে যাওয়া লাগতো। এর মাঝেই আমি ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাই।

রেজাল্ট ভালো হওয়ায় লেখাপড়ার সুবিধার জন্য আমার মায়ের ফুফু আমাকে আর আম্মুকে তার বাসায় নিয়ে যায়। কেননা তার বাসা স্কুলের খুব কাছেই ছিলো। এভাবেই চলছিল মোটামুটি ।

হঠাৎ একদিন আমার ফুফু ও চাচারা আমাদের কাছে এসে বাবার কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা চায় আর দাবী করে বাবা আর আগের মতো নেই , বাবা এখন চাকরি করে আর চায় আমরা আবার ফেরত আসি। এরপর আমি আর আম্মু আবার দাদুবাড়িতে ফেরত যাই ।

কিন্তু সেখানে গিয়ে বাবা পূর্বের অবস্থার কোনো উন্নতি তো দেখিই নি বরং তার আচরণ আগের তুলনায় আরও বেশি উগ্র ছিলো। বাবা কোনো চাকরিও করতো না । তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই আমার মা কে সেলাই এর কাজ শুরু করতে হয় ।

এই সময়টাতেও আমার বাবা বেশ কয়েকবার মাকে মেরে জখম করেছিলো। যা আমার মা মুখ বুজে সহ্য করে গেছে। হঠাৎ ক্লাস সেভেনে থাকতে একদিন মা রাতে আমার রুমে এসে বলে ,” তোর বাবা আমাকে মেরে ফেলার জন্য ছুরি নিয়ে রুমে বসে আছে।“ সেই রাতে আমরা মা মেয়ে সারারাত একে অপরকে জড়িয়ে কান্নাকাটি করি ।

পরেরদিন সকালে স্কুলে গিয়ে এসেম্বলিতে আমি মাথা ঘুরে পড়ে যাই । এরপর মা আর চাচা মিলে স্কুল থেকে নিয়ে আসে আমাকে ।

সকাল ১০ টার দিকে বাবা ঘুম থেকে উঠে আমি স্কুলে কেন যাই নি সে ব্যাপারে মাকে প্রশ্ন করে । উত্তরে আমার মা যখন বলে আমি স্কুলে অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম তখন বাবা বেশ রেগে যায় এবং রাগের বশে রান্নাঘর থেকে বটী নিয়ে এসে আমার শরীরের ওপর চড়াও হয় আমাকে মারার জন্য ।

আমি ঐ অবস্থায় খুবই ভয় পাই যার ফলে আমার খিঁচুনী শুরু হয় আর মুখ দিয়ে ফ্যানা উঠতে শুরু করে। তখন দাদী এসে কোনোমতে আমার বাবা কে আটকায় । আর আমরা মা মেয়ে সেদিনই এক কাপড়ে ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই।

শহরে এসে ১৭৫০ টাকায় একরুমের একটা বাসা ভাড়া করে আম্মু।বাসাটার অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো ।বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি পড়তো, আশেপাশে জঙ্গল আর রাতে গায়ের উপর দিয়ে ইঁদুর হেটে যেত এমন অবস্থা ছিলো।

সেসময় আমার নানীর কাছে সেলাই এর জন্য ৫০০০ টাকা আম্মু ধার চাইলে তারাও মুখ ফিরিয়ে নেয় আমাদের থেকে । শেষে অনেক কষ্টে আম্মু কোনোমতে সেলাই এর কাজ শুরু করে। সবকিছুর মাঝেও লেখাপড়াটা করতাম মন দিয়ে।

লবণ দিয়ে সেদ্ধ করা কচুপাতা খেয়ে জেএসসি পরীক্ষা দিতে যাই। দেখতে দেখতে জেএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়। জেএসসিতে ও আমি বৃত্তি পাই। আমার স্কুলের এক শিক্ষক এরপর প্রায় তিনবছর আমার কাছে টাকা না নিয়েই তার কোচিং এ পড়ার সুযোগ করে দেন।

ধীরে ধীরে আম্মুর আয় রোজগারেও কিছুটা উন্নতি হয় আর আমরা একটা ভালো বাসায় গিয়ে উঠি । এভাবে এসএসসিও পার করি এবং বোর্ড বৃত্তিপ্রাপ্ত হই। এই পুরো সময়টাতে আমার বাবা আমার আর মায়ের কোনো খোঁজ নেয় নি ভরনপোষণের টাকা তো দূরের ব্যাপার।

এসএসসি পরীক্ষা শেষে হঠাৎ একদিন আমাকে এক বাসায় নিয়ে গিয়ে আম্মু আমাকে আমার নতুন বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। আম্মু আমাকে না জানিয়েই তাকে বিয়ে করেছিলো ।

আমার নতুন বাবার আগেরপক্ষের স্ত্রীর দুই মেয়ে আর এক ছেলে ছিলো আর তারা প্রত্যেকেই আমার থেকে বয়সে বড় । তারা আমাকে কখনোই স্বীকার করতে পারেনি বোন হিসেবে আর আমি ওই বাসায় আরও বেশি একা হয়ে পড়েছিলাম। একরকম হতাশার মধ্য দিয়েই এইচএসসিও পার করে ফেলি। শুরু হলো এডমিশন প্রিপারেশন।

আমার মায়ের শখ ছিলো আমাকে ডাক্তার বানাবে। কিন্তু আমি আম্মুকে বলি আমার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছার কথা ।তাও আমার মা রাজি না হওয়ায় আমাকে অনেকটা জোরপূর্বক মেডিকেল কোচিং করা লাগে। কিন্তু আমি মেডিকেল কোচিং কে সিরিয়াসলি নেই নি।

আমার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার বাসনা মন থেকে যায় নি । এমনও অনেকদিন গেছে আমি বায়োলজি না পড়ে ম্যাথ করেছি বসে বসে। যথারীতি আমি মেডিকেলে চান্সও পাই নি। ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে শুধুমাত্র রুয়েটেই পরীক্ষা দিয়েছিলাম। চান্স পাওয়ার পর আম্মু অনেক খুশি হয়েছিলো।

রেজাল্টের পর অনেকেই আম্মুকে বলেছিলো মেয়ে মানুষ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে কি করবে। কিন্তু আম্মু সেগুলো আমলে না নিয়ে আমার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েছিলো।

এরপর ভর্তির সময় আর্থিক সাহায্যের জন্য আমার মামাকে আম্মু বললে আমাকে বিয়ে দিয়ে বোঝা নামিয়ে ফেলার উপদেশ দেয় আমার মামা। শেষে আমার মায়ের শেষ সম্বল একটা ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে রুয়েটে ভর্তির ব্যাবস্থা হয়।

ভর্তির পর থেকে আম্মুই আমার খরচাপাতি বহন করে আসছে । এখনও হল না পাওয়াতে আমাকে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। আমি পড়াশোনা নিজের মতো চালিয়ে যাচ্ছি।আমার মা আমার জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। আমি সেগুলো বৃথা যেতে দিতে পারি না ।

আমি আমার আর মায়ের একটা সম্মানজনক জীবনের জন্য প্রতিদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করি।আজ প্রায় ৯ বছর হতে চললো আমার বাবা আমাদের কোনো প্রকার খোঁজ নেয়নি ।আমি চাই একদিন প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবার সামনে যাবো।

জিজ্ঞেস করবো, “কেন করেছিলে এমন আমাদের সাথে? আমার জীবনটাও তো স্বাভাবিক হতে পারতো যদি তুমি এমন না করতে”। কখনো উনার কোন সাপোর্ট এর প্রয়োজন হলে আমি করবো। সেই আশাতেই এখনো পথচলা থামাই নি।

During the JSC exam once there was nothing to eat at home. My mother brought the arums from the side of the house and boiled them with salt and I ate it and went to the exam hall.

I am the only child of my parents. Our family was a joint family. My father was an MD of my fraternal uncle’s company. Everything was normal. When I was in class three, my father quit his job because he had a quarrel with my fraternal uncle about something.

Then my father started a business with my maternal uncle. When I was in class five, my father suddenly claimed that my maternal uncle had embezzled 1,50,000 Taka from him. As a result, the relationship between my father and mother began to deteriorate.

Father did not hesitate to raise his hand to my mother for minor mistakes. Very often my mother was hurt and injured and was locked in the room. As a result, one day my maternal uncle and grandmother came and took my mother and me to their house.

My school was far away from my grandmother’s house. So I had to go to school in the morning. In the meantime, I got Talentpool Scholarship in class five.

As the results were good, my mother’s fraternal aunty took us to her house for the convenience of education. Because her home was very close to the school. That’s how it went.

We came to the city and rented a one-roomed house for 1750 Taka. The condition of the house was very bad. When it rained, water would fall from the roof, and at night rats would walk on the skin.

At that time, when my mother asked my grandmother to borrow 5,000 Takas for sewing, they also turned away from us. In the end, with great difficulty, my mother somehow started sewing. In. Stead of everything I used to study attentively.

I went to give the JSC exam after eating the arums boiled with salt. The results of the JSC examination came out. I also got scholarship in JSC. A teacher at my school gave me the opportunity to study at his coaching for about three years without taking any money from me.

Gradually my mother’s income also improved a bit and we moved to a better home. In this way I passed SSC and got board scholarship. During this whole time, my father did not look for us.

My father woke up around 10 o’clock in the morning and asked my mother why I didn’t go to school. When my mother replied that I had fainted at school then my father became very angry and he brought a chopper from the kitchen and attacked me to kill me.

I was very scared in that situation for which i started to convulse and saliva started to come out from my mouth. Then my grandmother came and somehow stopped my father. And that day we went from the house in the same clothes.

Suddenly one day after the SSC exam, my mother took me to a house and introduced me to my new father. My mother married him without informing me.

My new father’s ex-wife had two daughters and a son and they were all older than me. They never recognized me as a sister, and I was more alone in that house.

I crossed the HSC through one kind of frustration. Admission preparation has started. My mother’s hobby was to make me a doctor. But I told my mother about my desire to study engineering.

Even though my mother did not agree, I was forced to undergo medical coaching. But I didn’t take medical coaching seriously.My desire to study engineering did not leave my mind.

Very often I’ve studied math instead of biology. As usual I didn’t even get a chance in medical. Among the engineering institutes, I only sat for admission test in RUET. My mother was very happy after getting the chance.

After the result, many people told my mother what can i do after studying engineering since I am a girl. But my mother did not take them into consideration and gave priority to my wishes.

Then when my mother called my maternal uncle for financial help during admission, my uncle advised my mother to get rid of the burden by getting married of me.

In the end, My mother broke her last asset, a fixed deposit. And I got admitted in RUET. My mother has been covering my expenses since admission. I’m still struggling to make ends meet.

I continue my studies on my own. My mother has endured a lot of hardships for me. I can’t let them go in vain.I pray to Allah every day for a dignified life for me and my mother. Today it has been almost 9 years since my father did not look for us.

I want to be established one day and to go in front of my father. I will ask him, “Why did you do that to us? My life would have been normal if you hadn’t done that. “If he ever needs any support, I will do it. That hope has not stopped my path yet.

©Human’s of RUET

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *