কিডনি বিকল হওয়া নোবিপ্রবির সাইফ বাঁচতে চায়

বাংলাদেশে কিডনি একটি ভয়াবহ রোগ। কিডনি আক্রান্ত হলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দেহের গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গ কিডনি বা বৃক্ক, যা সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হয়ে গেলে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সাইন্স ও লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাইফ উদ্দিন
এই কিডনি রোগে আক্রান্ত। তার দুটো কিডনিই ইতিমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে।সে এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি বিভাগে প্রফেসর ডা. নজরুল ইসলামের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

এছাড়া ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একাধিক ডাক্তারের পরামর্শ নিলে তারা করোনা পরবর্তীতে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করার পরামর্শ দেন।

এর আগে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাইফের দুটি কিডনিই প্রতিস্থাপন করতে হবে, তা না হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। এদিকে সাইফের পরিবারের কারও সঙ্গেই তার রক্তের গ্রুপ ম্যাচ না হওয়ায় পরিবারের ইচ্ছে সত্ত্বেও কেউ কিডনি দিয়ে তাকে সুস্থ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সাইফকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন কিডনির।

সাইফের বাবা জানিয়েছিলেন, ছেলেকে বাঁচাতে প্রায় ২০ লাখ টাকা লাগবে বলে ডাক্তার জানিয়েছেন। সাইফের পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে সাইফের সহপাঠী, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের দয়ালু বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার আবেদন করেছেন।

এমন অবস্থায় অসুস্থ সাঈফের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তারা জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য এক দিনের সমপরিমাণ বেতন দেবেন। সেখান থেকে অর্ধেক অংশ শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেয়া হবে। বাকি অর্ধেক অংশ সাঈফের চিকিৎসা সেবায় ব্যয় করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইফ উদ্দীনের পরিবারকে,

ছাত্র কল্যান তহবিল থেকে- এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা,
আইআইএস(ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেশন সায়েন্স)- ৫০ হাজার টাকা,
ও শিক্ষকদের এক দিনের বেতনের অর্ধেক এবং নগদ উত্তোলন সহ প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা সহযোগীতা করা হবে।

এর ভেতর ছাত্র কল্যান ও আইআইএস এর টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে ইতিমধ্যে।

সহযোগীতার বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন,”শিক্ষকদের এক দিনের বেতনের অর্ধেক ছাড়া বাকি সব টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিটা সোমবার (২০ জুলাই) হস্তান্তর করা হয়।”

সাইফকে সহযোগীতা করতে নিচের নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বিকাশ: 01879 373407
নগদ: 01830 016100
রকেট: 01742 268670