ক্যাম্পাস পরিচিতিঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ DMC

DMC- বাংলাদেশের রাজধানি ঢাকায় অবস্থিত একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ।লাখ লাখ মেডিকেল পড়তে ইচ্ছুকের স্বপ্নের ক্যাম্পাসটি ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়।

যা বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।নবাব স্যার সলিমুল্লাহের দানকৃত জায়গার উপর মাত্র একটি ভবন নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির আয়তন বর্তমানে ২৫ একর।

একটু পা বাড়ালেই উত্তরে ঢাবির টিএসসি,পশ্চিমপার্শে বুয়েট ক্যাম্পাস

K-কথন:

ডিএমসির প্রতিটি ব্যাচকে kদারা প্রকাশ করা হয়।সর্বকনিষ্ঠ ব্যাচ k-৭৭।K এর উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। কারও কারও মতে K এর উৎপত্তি কলকাতা থেকে।

আবার কারও মতে ভারতীয় উপমহাদেশের একাদশ মেডিকেল কলেজ হিসেবে ইংরেজি বর্ণমালার একাদশ বর্ণ K নির্বাচন করা হয়েছে।

অবকাঠামো:-
একটি মাত্র ভবন নিয়ে পথচলা শুরু করা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিজস্ব প্রায় ২৫ একর জমিতে বর্তমানে রয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা- কলেজ ভবন, অডিটোরিয়াম, পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র, ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল, বার্ন ইউনিট ইত্যাদি।

শুরুতে হাসপাতাল ভবনেই প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস হলেও ১৯৫৫ সালে একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য বর্তমান কলেজ ভবনটি নির্মিত হয়।

এতে বেসিক সাবজেক্টগুলির জন্য স্থান বরাদ্দের পাশাপাশি আরও কিছু স্থাপনা রয়েছে। ২৮টি বিভিন্ন বিভাগ এবং হাসপাতালে ৪২টি ওয়ার্ডে ২৩৪ জন ডাক্তার, ২০০ জন ইন্টার্নি ডাক্তার, ৫৬০ জন নার্স এবং ১১০০ জন অন্যান্য কর্মচারী নিয়োজিত আছেন রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিতে।

প্রায় ২৩০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০০ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ হাসপাতালকে ৫০০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেলের ছেলেদের জন্য ডা:ফজলে রাব্বি হল এবং মেয়েদের জন্য ডাঃ আব্দুল আলীম চৌধুরী হল নির্মাণ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজনীতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ:-

১৯৫২ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র রূপে আবির্ভূত হয়।ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনারটি হোস্টেলের দরজার সামনেই নির্মাণ করা হয়।

বর্তমান কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারটিও হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে অবস্থিত।এরপর ষাটের দশকের সকল ছাত্র আন্দোলনে ঢামেকের সক্রীয় অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভূমিকা তিনভাগে বর্ণনা করা যেতে পারে- এক ভাগে যারা ঐ সময়ে কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের তৎপরতা, আরেকভাগে এই কলেজ থেকে পাশকৃত চিকিৎসকদের একটি অংশ যাঁরা অন্যান্য হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে কর্মরত ছিলেন কিনতু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন এবং শেষভাগে যারা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ না করলেও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বাঙালিদের চিকিৎসা করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম ডাঃ মোঃ ফজলে রাব্বি, ডাঃ আব্দুল আলীম চৌধুরী,ডাঃ হাসিময় হাজরা
ডাঃ গোপাল চন্দ্র সাহা,নীপা লাহিড়ী প্রমুখ।

৯০ এর দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন ডা:মিলন।বর্তমানে ইন্টার্র্নি হল এবং অডিটোরিয়ামটি তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।

বিশিষ্ট প্রাক্তন-
যারা এ পর্যন্ত ডিএমসি থেকে পাস করে গেছেন তাদের অনেকেই এখন দেশ বিদেশের নামকরা ডাক্তার।মুলধারার বাইরে কিছু প্রাক্তনের অবদান তাদের বিখ্যাত করেছে।

এমন কিছু প্রাক্তন-
☞ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম, বীর প্রতীক।
☞গোলাম মাওলা, ভাষাসৈনিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত
☞এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশের ১৪-তম রাষ্ট্রপতি।
☞আব্দুল মালিক, জাতীয় অধ্যাপক, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, স্বাধীনতা পুরষ্কারপ্রাপ্ত (২০০৪, চিকিৎসাবিদ্যা)
☞দিপু মনি, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী(২০১৯-), পররাষ্ট্রমন্ত্রী(২০০৯-২০১৩)

যা কিছু বিস্ময়কর-
হসপিটালের নতুন সংযোজন শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ।

আবার পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে সবার পরিচিত নাট্যকার এজাজ সাহেবকে দেখে বিস্মিত না হয়ে পারা যায়না।
দেশের একমাত্র বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিটটিও ডিএমসিতে অবস্থিত।

প্রিয় ফুটবলের জন্য রয়েছে নিজস্ব ক্লাব ডিএমসি শ্যুটারস।

অনেক কৃতী চিকিৎসক, শিক্ষক এ কলেজ থেকে পড়াশুনা করছেন।শুধু কি পড়াশুনা,না,ক্যাম্পাস প্রেম,রাজনীতি, সংস্কৃতি,নেতৃত্বগুণ,সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের এক প্লাটফর্ম।

proud of my campus,proud to be a DMCan

ছবি: সংগৃহীত
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
……………….
মবিনুল ইসলাম
দ্বিতীয় বর্ষ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ