বিশেষায়িত বশেরমুরমেবি’র নাভাল আর্কিটেক্ট এন্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং

নাভাল আর্কিটেকচার এন্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের আওতাধীন। তবে এখনো IEB এর নথিভুক্ত হয় নি কিন্তু এ নিয়ে আলোচনা জারি রয়েছে।

এই ডিপার্টমেন্ট সমন্ধে শুনলেই একটি সাধারণ জিজ্ঞাসা কাজ করে যে জাহাজে থাকা লাগবে কিনা?

উত্তরঃ

সচরাচর না। তার মানে তুমি যদি নেভাল আর্কিটেক্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ো জাহাজে তোমাকে থাকা লাগবে না।

যে জাহাজ টা তুমি বিল্ড করছ সেটা পরীক্ষা করার জন্য কিংবা মেইন্টেন্যান্স এর জন্য কিছু দিন থাকা লাগতে পারে, তাও সেটা খুবই নগণ্য।

আবার ডিপেন্ড করতেছে তুমি কোন সেক্টরে কাজ করতেছ। যদি ডিজাইনার হও তাহলে না। এক্সামিনেশন কিংবা মেইন্টেন্যান্স এর দায়িত্বে থাকলে কয়েকদিন থেকে দেখে আসবা।

তাহলে NAOE পড়ে কি জাহাজে থাকা যাবে না?

উত্তরঃ
যদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে চিন্তা করি তাহলে এই সাবজেক্টে পড়ে জাহাজের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বলতে তোমরা যেটা চিন্তা করো সেটাকে ক্যারিয়ার বানানো প্রায় অসম্ভব।

জাহাজে চাকরি পেতে কিছু সার্টিফিকেট লাগে (COC/CDC) এবং এগুলা ম্যানেজ করতে টাকা পয়সাও লাগে আবার এক্সট্রা ট্রেইনিং কোর্সের ঝামেলা আছে। তার উপর এই সেক্টরে একটু জবের মন্দা চলছে। ল্যান্ড বেইসড পড়াশুনা করে জাহাজে চাকরি পাওয়া বেশ জটিল।

সুতরাং কারো জাহাজের ক্যাপ্টেন কিংবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছে থাকলে মেরিন একাডেমি তে এপ্লাই করো।আর এখানে পড়লে Naval Architect হিসেবে ক্যারিয়ার গড়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

NAME(BUET/MIST) আর NAOE(BSMRMU) এর পার্থক্য টা কি?

উত্তরঃ
NAOE তে NAME Course এর প্রায় পুরোটাই কাভার করা হয় কিছু কোর্স বাদ দিয়ে। সেই কোর্স গুলো জাহাজের ইন্টার্নাল ফাংশনে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ মেরিন ইঞ্জিনিয়াররা সেগুলো ব্যবহার করেন।
আর NAOE তে পড়ানো হয় অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং। সোজা বাংলায় সমুদ্রে ভাসমান যেকোনো স্থাপনা তৈরি করেন অফশোর ইঞ্জিনিয়াররা।

হোক সেটা ভাসমান কোনো পোর্ট অথবা এনার্জি স্টেশন। কোথাও ন্যাচারাল রিসোর্স খুজে পাওয়া গেলে সেটা উত্তলনের জন্য স্ট্রাকচার বানানো থেকে শুরু করে সব কিছু করেন অফশোর ইঞ্জিনিয়ার।

এটার আবার অনেকগুলো সেক্টর আছে। এর মধ্যে কিছু সেক্টরে জব করলে সমুদ্রে অনেকদিন থাকা লাগবে। এগুলোতে আবার বেতন ও দেয় অনেক লোভনীয়। চাইলে গুগল করে নিতে পারেন!

ক্যারিয়ার পার্সপেক্টিভঃ

• দেশে শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি কয়েক দিন আগেও খুব বাজে অবস্থায় ছিল। কিন্ত এখন সেটা ভালর দিকে। তার মানে এই না যে ভাল হয়ে গেছে। আস্তে আস্তে আমরা এই সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছি।

এখন আমরা জাহাজ রপ্তানিও করছি। মার্চেন্ট শিপের পাশাপাশি Warship ও রপ্তানি হচ্ছে।ভবিষ্যতে Navy এর সব শিপ দেশেই বানানোর প্লান। এজন্য তো Naval Architect লাগবেই। যদিও বেশির ভাগ কাজ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা করাচ্ছে।কিন্তু যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক স্কিল্ড নেভাল আর্কিটেক্ট পেয়ে যাবে তখন তাদের দিয়েই করাবে।
অর্থাৎ তার মানে যদি তোমার স্কিল থাকে তুমি জব পাবা।

• অফশোর ইঞ্জিনিয়ার’সঃ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা একেবারেই নতুন। কিন্তু এই সেক্টরে এক্সপার্ট লোক আমাদের খুব বেশি দরকার।

কারন আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ব্লু ইকোনোমির উপর। এই এক গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি দিয়ে আর বেশিদিন চলবে না। ব্লু ইকোনোমির দুটো গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জাহাজ নির্মানশিল্প এবং সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ (যেমন তেল,গ্যাস)।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং মায়ানমার অলরেডি এসব রিসোর্স বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তলন শুরু করে দিয়েছে। যাই হোক যেদিন বাংলাদেশ এই সেক্টরে কাজ শুরু করবে তখন আমাদের অনেক অফশোর ইঞ্জিনিয়ার লাগবে। তখন দেখা যাবে দেশের ইঞ্জিনিয়ার দিয়েও হচ্ছে না বাহির থেকে আনা লাগছে।আশা করা যায় সেই সময় খুব বেশি দূরে নয়।

• দেশের বাইরে ভাল রেজাল্ট থাকলে ভাল স্কিল থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব। কিন্তু রেজাল্ট ভাল থাকা চাই, স্কিল ডেভেলপ করা চাইই চাই। এছাড়া অনেক সার্টিফিকেশন সোসাইটি আছে। এগুলো অনেক রয়্যাল জব।

• এছাড়া NAOE মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ই একটা পার্ট। যদি স্পেসিফিক কোর্সের রেজাল্ট অনেক বেশি ভাল থাকে তাহলে ইজিলি মেকানিক্যালের সেই সেক্টর গুলোতে সুইচ করা সম্ভব (মানে মাস্টার্স করতে পারবা,যেমন এরোস্পেস,এরোনটিক্যাল,অটোমোবাইল,ফ্লুইড ডাইনামিকস,পাওয়ার প্লান্ট ইত্যাদি)।

চাইলে রিসার্চার ও হওয়া সম্ভব, বিজ্ঞানী ও হওয়া সম্ভব। প্যাশন টা থাকা চাই শুধু। আর অনেক বেশি পরিমাণে খাটতে হবে।

মোট কথা এটি অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা সাবজেক্ট। এখানে অনেক বেশি পড়াশুনা অনেক বেশি পরিশ্রম।

তোমার একটা বড় স্বপ্ন থাকতে হবে, তাহলেই ভাল কিছু সম্ভব।

তাসনুর জাহান মীম,

বশেমুরমেবি প্রতিনিধি।

তথ্য সহায়তায়ঃ এ. এস. এম. সাদিদ!